
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগটি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং আক্রান্ত শিশুর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। হাম আসলে কী, কেন হয় এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে কী পরামর্শ দিচ্ছেন, তা নিয়েই আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।
হাম বা 'মিজেলস' হলো একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা 'রুবেওলা' ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। যেকোনো বয়সের মানুষের এটি হতে পারে, তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি ও জটিলতা সবচেয়ে বেশি।
হাম একটি বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত শিশু যখন হাঁচি বা কাশি দেয়, তখন বাতাসের মাধ্যমে এর জীবাণু সুস্থ শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া:
সংক্রমণের ১০ থেকে ১২ দিন পর সাধারণত লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে:
১. তীব্র জ্বর (১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে)।
২. সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
৩. গলার ভেতরে বা মুখে ছোট ছোট সাদাটে দাগ (কোপলিক স্পটস)।
৪. জ্বরের ৩-৪ দিন পর সারা শরীরে লালচে দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে লক্ষণ অনুযায়ী সঠিক সেবা দিলে শিশু দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শগুলো হলো:
যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়, কান দিয়ে পুঁজ পড়ে, প্রচণ্ড ডায়রিয়া হয় কিংবা শিশু অচেতন হয়ে পড়ে বা খিঁচুনি দেয়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নেওয়া। সরকারি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) অনুযায়ী: