প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 1, 2026 ইং
অকটেনের গাড়ি কি পেট্রলে চালানো যায়? ভুল জ্বালানি ব্যবহারে ইঞ্জিনের যে ক্ষতি হতে পারে

অকটেনের গাড়ি কি পেট্রলে চালানো যায়? ভুল জ্বালানি ব্যবহারে ইঞ্জিনের যে ক্ষতি হতে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম ও সহজলভ্যতা বিবেচনা করে অনেক গাড়ি চালকই দ্বিধায় ভোগেন যে, অকটেনের জন্য নির্ধারিত ইঞ্জিনে পেট্রল ব্যবহার করা যাবে কি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাময়িকভাবে গাড়ি চললেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ইঞ্জিনের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
অকটেন ও পেট্রলের মূল পার্থক্য:
অকটেন ও পেট্রলের মূল পার্থক্য হলো এদের ‘অকটেন নম্বর’ বা দহন ক্ষমতা। হাই-কম্প্রেশন ইঞ্জিনের জন্য উচ্চ মানের জ্বালানি (অকটেনে সাধারণত ৯০-৯৫ নম্বর) প্রয়োজন হয়, যা নির্দিষ্ট চাপে পৌঁছানোর আগে নিজে থেকে জ্বলে ওঠে না। অন্যদিকে পেট্রলের অকটেন নম্বর কম হওয়ায় এটি দ্রুত এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বলে ওঠে।
পেট্রল ব্যবহারে যে ক্ষতি হতে পারে:
- ইঞ্জিন নকিং: ইঞ্জিনের পিস্টন উপরে ওঠার আগেই যদি জ্বালানি জ্বলে ওঠে, তবে ভেতরে ধাতব ঠকঠক শব্দ হয়, যাকে বলা হয় 'নকিং'। এটি পিস্টন ও সিলিন্ডারের মারাত্মক ক্ষতি করে।
- শক্তি ও গতি হ্রাস: উচ্চক্ষমতার ইঞ্জিনে পেট্রল ব্যবহার করলে গাড়ি তার স্বাভাবিক শক্তি হারায়। অ্যাকসিলারেটর চাপলেও গাড়ি আগের মতো গতি পায় না।
- কার্বন জমা হওয়া: অকটেন অনেক বেশি পরিষ্কারভাবে জ্বলে। বিপরীতে পেট্রল পুরোপুরি না জ্বলার কারণে ইঞ্জিনের ভাল্ভ এবং স্পার্ক প্লাগে কার্বনের আস্তরণ জমা হয়, যা ইঞ্জিনের আয়ু কমিয়ে দেয়।
- অতিরিক্ত গরম হওয়া: ভুল জ্বালানি ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের দহনপ্রক্রিয়ায় অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, যা ইঞ্জিনকে দ্রুত গরম করে তোলে।
- মাইলেজ কমে যাওয়া: ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতা কমে যাওয়ায় জ্বালানি খরচ বেড়ে যায় এবং মাইলেজ দ্রুত কমতে থাকে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
গাড়ির ম্যানুয়ালে বা ফুয়েল ট্যাংকের ক্যাপে সাধারণত কোন গ্রেডের জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে তা লেখা থাকে। যদি আপনার গাড়িটি নতুন মডেলের বা হাই-পারফরম্যান্স ইঞ্জিন সমৃদ্ধ হয়, তবে সবসময় অকটেন ব্যবহার করাই শ্রেয়। জরুরি প্রয়োজনে সামান্য পেট্রল মেশানো গেলেও নিয়মিত এটি করা ইঞ্জিনের জন্য 'সুইসাইড' বা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মতো।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময়বাংলা