
দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ‘বিসিএস’ (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) নিয়ে নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে। ৫০তম বিসিএসে আবেদনের সংখ্যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে তিন লাখের নিচে নেমেছে। এদিকে, দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে মাত্র এক বছরের মধ্যে এই বিসিএসের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার এক বড় চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৫০তম বিসিএসে মোট আবেদনের সংখ্যা ২ লাখ ৮০ হাজারেরও নিচে অবস্থান করছে। অথচ এর আগের কয়েক বছরে এই সংখ্যা ৪ লাখ বা তারও বেশি ছিল। চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আবেদন কমার পেছনে ক্যাডার পদের সংখ্যা, প্রস্তুতির সময় এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিকল্প ক্যারিয়ারের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
পিএসসির নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রিলিমিনারি থেকে শুরু করে ভাইভা এবং চূড়ান্ত সুপারিশের কাজ এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিসিএস পরীক্ষায় সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর সময় লেগে যাওয়ার যে প্রথা চলে আসছিল, তা ভাঙতে চায় বর্তমান কমিশন। দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা গ্রহণ ও খাতা মূল্যায়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক বছরে বিসিএস শেষ করা একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। এর জন্য প্রয়োজন:
সমন্বিত পরিকল্পনা: প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পরপরই দ্রুত ফলাফল প্রকাশ।
লিখিত পরীক্ষার গতি: স্বল্প সময়ের মধ্যে কয়েক হাজার পরীক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়ন শেষ করা।
বিভাগীয় সমন্বয়: স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সহযোগিতা।
পিএসসির এই উদ্যোগ সফল হলে বিসিএস জট কমবে এবং মেধাবী তরুণরা দ্রুত কর্মক্ষেত্রে যোগদানের সুযোগ পাবেন। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এই বিশাল কর্মযজ্ঞ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।