নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: উৎসবের দিনে আনন্দ নয়, বরং জ্বালানি তেলের সন্ধানে তপ্ত রাজপথেই কাটল রাজধানীবাসীর পহেলা বৈশাখ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) বাংলা নববর্ষের ছুটিতে যখন শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ, তখন হাজার হাজার বাইকার ও গাড়িচালককে দেখা গেছে ফুয়েলের সিরিয়ালে। এক ভুক্তভোগী বাইকারের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার অপেক্ষার এক অমানবিক ও কষ্টের চিত্র।
সকাল ৬টায় বাসা থেকে বেরিয়ে মহাখালীর ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। প্রাইভেট কারের লাইন মহাখালী বাস টার্মিনাল ছাড়িয়ে গেছে, আর বাইকের সিরিয়াল ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি পর্যন্ত। আসাদ গেট সোনার বাংলা স্টেশনে গিয়েও দেখা যায় মোহাম্মদপুর টাউন মার্কেট পর্যন্ত দুই লাইনের জট। বাধ্য হয়ে পুনরায় ট্রাস্টের লাইনেই ফিরে আসেন ওই ভুক্তভোগী।
সকাল ৭টায় মহাখালী রেলগেট থেকে শুরু হওয়া অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টা ৯ মিনিটে। অর্থাৎ মাত্র ১২০০ টাকার তেলের জন্য রাজপথে কাটাতে হয়েছে একটানা ১৩ ঘণ্টা। দুপুর নাগাদ সিরিয়াল যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পার হয়, তখন প্রচণ্ড রোদে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়।
ছুটির দিনে ছোট সন্তানকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তেলের লাইনের কাছে হার মেনেছে বাবার সেই মমতা। বার বার ফোনের ওপাশ থেকে আসা "বাবা তেল নেওয়া হয়নি? ঘুরতে যাবে কখন?"—প্রশ্নের উত্তর ছিল কেবল "এইতো আর একটু সময়"। দিনশেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে সন্তানের আবদার মেটানো সম্ভব হয়নি ওই বাবার পক্ষে।
সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাইকারদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। দীর্ঘ সময়ে অপরিচিত মানুষগুলো একে অপরের বন্ধু হয়ে আড্ডায় মেতে ওঠেন। তবে এরই মাঝে কিছু অসাধু বাইকারের কর্মকাণ্ড ছিল হতাশাজনক। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকেই ট্যাংক থেকে পাইপ দিয়ে বোতলে তেল ভরে ব্যাগে লুকিয়ে রাখতে দেখা গেছে কয়েকজনকে, যা চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
মন্তব্য করুন