ওয়াশিংটন/বেইজিং: ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে এবার চীনের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরান থেকে তেল আমদানির বিষয়ে বেইজিংকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যারা ইরানের তেল কিনবে তাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক (Tariffs) আরোপ করা হবে।
ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, আগামী ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইরানের তেলের ওপর দেওয়া বর্তমান মার্কিন ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপর থেকে কোনো দেশই আর ইরান থেকে তেল কিনতে পারবে না। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে যাতে কোনো ইরানি তেলবাহী জাহাজ চীন বা অন্য কোনো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে হলে তাদের আয়ের প্রধান উৎস ‘তেল’ বন্ধ করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ "বিপজ্জনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন"। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে তেল আমদানির অজুহাতে চীনের ওপর নতুন করে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা (Countermeasures) নিতে পিছপা হবে না।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখন আর শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বের দুই প্রধান শক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে।
মন্তব্য করুন