নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীতে মোটরবাইক চুরির নিত্যনতুন ও অভিনব সব কৌশলের কথা শোনা যায়। তবে সম্প্রতি মিরপুরে এক বাইকারের সচেতনতায় সামনে এসেছে চোর চক্রের এক অদ্ভুত ও সুক্ষ্ম কৌশল, যা সাধারণ বাইকারদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। মিরপুর ৬০ ফিট এলাকায় ‘হেলমেট ট্র্যাপ’ ব্যবহার করে বাইক চুরির এই নতুন চেষ্টার বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী মনিরুজ্জামান।
গত মাসের শেষের দিকে মনিরুজ্জামান এবং তার ছোট ভাই তাদের শখের বাইক (একটি এবং অন্যটি নতুন Yamaha MT-15) নিয়ে মিরপুর ৬০ ফিট এলাকায় যান। হিরো সার্ভিস সেন্টারের সামনে বাইক দুটি পার্ক করে তারা প্রয়োজনীয় কাজে মার্কেটে যান। প্রায় ৪০ মিনিট পর ফিরে এসে মনিরুজ্জামান যা দেখলেন, তা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
তিনি দেখেন, ছোট ভাইয়ের নতুন MT-15 বাইকটি ঘিরে ৪-৫ জন লোক দাঁড়িয়ে আছে এবং বাইকের লুকিং গ্লাসের ওপর একটি কাল রঙের ফুলফেস ‘ইয়োহি’ (Yohe) হেলমেট রাখা। মালিককে আসতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে ওই ব্যক্তিরা গা ঢাকা দেয়। মনিরুজ্জামান সন্দেহবশত নিজেকে মালিক পরিচয় না দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। তার এই অবস্থান দেখে চক্রের সদস্যরা পুনরায় বাইকের কাছে আসার চেষ্টা করেও ফিরে যায়। দীর্ঘ ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করলেও কেউ ওই হেলমেটটি নিতে আসেনি।
মনিরুজ্জামানের মতে, এই হেলমেট রাখা কেবল কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি চুরির একটি পূর্বপরিকল্পিত অংশ। এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ থাকতে পারে:
১. আশেপাশের মানুষের বিশ্বাস অর্জন: টার্গেট করা বাইকের ওপর নিজেদের হেলমেট রেখে চোরেরা আশেপাশে থাকা লোকজনকে বলে, "ভাই বাইকটা একটু দেখে রেখেন।" এতে পরবর্তীতে যখন তারা বাইকটি নিয়ে চম্পট দেয়, তখন প্রত্যক্ষদর্শীরা মনে করেন বাইকের প্রকৃত মালিকই হয়তো এটি নিয়ে যাচ্ছেন।
২. মালিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া: বাইকের ওপর একটি ব্যবহারের অযোগ্য বা পুরোনো হেলমেট রেখে তারা আড়ালে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করে। মালিক আশেপাশে থাকলে সাধারণত নিজের বাইকের ওপর অন্য কারো হেলমেট দেখে দ্রুত প্রতিবাদ করেন বা সরিয়ে ফেলেন। দীর্ঘক্ষণ কেউ না এলে তারা নিশ্চিত হয় যে মালিক আশেপাশে নেই এবং বাইকটি নিয়ে পালানোর জন্য উপযুক্ত সময়।
ঘটনাটি মিরপুর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বাইক চালকদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, জনসমক্ষে বাইক পার্ক করার সময় অপরিচিত কেউ যদি বাইকের ওপর কিছু রাখতে চায় বা কোনো অস্বাভাবিক কিছু নজরে পড়ে, তবে দ্রুত সতর্ক হতে হবে। চোর চক্রের সদস্যরা অনেক সময় ‘স্পটার’ হিসেবে কাজ করে এবং সুযোগ বুঝে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাস্টার কি (Master Key) ব্যবহার করে বাইক নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
মনিরুজ্জামান তার এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মনে রাখবেন, আপনার একটু সচেতনতাই পারে শখের বাইকটিকে চুরি হওয়া থেকে রক্ষা করতে।
মন্তব্য করুন