নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একদিকে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর নতুন করে অবরোধ আরোপ, অন্যদিকে রাশিয়ার তেলের ওপর দেওয়া মার্কিন ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়া—এই দ্বিমুখী চাপে সংকটে পড়েছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বন্দর লক্ষ্য করে অবরোধ শুরু করেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ আসে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে কম দামে তেল কিনে আসছিল। এই বাণিজ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সাময়িক ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটন এই ছাড়ের মেয়াদ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় এখন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা ভারতের জন্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও ভারত সরকার দাবি করেছে যে বর্তমানে এলপিজি বা জ্বালানির কোনো তাৎক্ষণিক ঘাটতি নেই, তবে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার বিকল্প উৎস খুঁজে পাওয়া ভারতের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপে এই সংকটের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন