সিনেমার রুপালি পর্দায় জেমস ক্যামেরন মানেই এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা। তার হাত ধরেই দর্শক বারবার নীল রঙের কাল্পনিক গ্রহ ‘প্যান্ডোরা’য় হারিয়ে যেতে চায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’ বিশ্বজুড়ে যে ঝড় তুলেছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। বক্স অফিসের আয়ের অংক বলছে, জেমস ক্যামেরন আবারো প্রমাণ করেছেন কেন তাকে ‘বক্স অফিসের রাজা’ বলা হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’ বিশ্বব্যাপী ২.৩ বিলিয়ন (২৩০ কোটি) ডলারের বেশি আয় করে সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় শীর্ষ তিনে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে এই তালিকার প্রথম স্থানে ছিল ক্যামেরনেরই প্রথম ‘অ্যাভাটার’ (২০০৯) এবং দ্বিতীয় স্থানে ছিল ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
সিনেমা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু গল্প নয় বরং অত্যাধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (VFX) এবং থ্রি-ডি প্রযুক্তির অসাধারণ ব্যবহার দর্শককে হলমুখী করেছে। বিশেষ করে চীন, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের বাজারে সিনেমাটি শত শত কোটি ডলার ব্যবসা করেছে। জেমস ক্যামেরন নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, এই সিনেমাটি লাভজনক হতে হলে একে ইতিহাসের অন্যতম সফল সিনেমা হতে হবে—আর বাস্তবে ঠিক সেটিই ঘটেছে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনায় থাকা এই ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী কিস্তি অর্থাৎ ‘অ্যাভাটার ৩’ নিয়ে এখন দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। দ্বিতীয় পর্বের অভাবনীয় সাফল্যের পর জেমস ক্যামেরন আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজির বাকি সিনেমাগুলোও নির্ধারিত সময়েই বড় পর্দায় আসবে।
বক্স অফিসের এই ‘অ্যাভাটার’ ঝড় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দর্শক এখনো বড় পর্দায় মহাকাব্যিক গল্প দেখতে পছন্দ করেন। এখন দেখার বিষয়, নিজের তৈরি করা রেকর্ড জেমস ক্যামেরন নিজেই ভাঙতে পারেন কি না।
মন্তব্য করুন