ময়মনসিংহের ত্রিশালে নদ-নদীর বুক চিরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসবে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার সকালে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের চর ইছামতি এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে হাতে-নাতে আটক করা হয় এক বালু ব্যবসায়ীকে। জনস্বার্থে পরিচালিত এই অভিযানে একজনকে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অভিযানের নেপথ্যে
দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চর ইছামতি এলাকায় নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিপণন করে আসছিল। এতে নদী ভাঙনের ঝুঁকি ও পরিবেশের ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়ে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকালে সেখানে হানা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দণ্ড ও আইনি ব্যবস্থা
অভিযানে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের সময় আটক করা হয় কাজির গ্রাম এলাকার বাসিন্দা আব্দুছ ছাত্তারকে (৩৮)। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় 'বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০' অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে নিম্নলিখিত দণ্ড প্রদান করেন:
কারাদণ্ড: ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
জরিমানা: ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা নগদ অর্থদণ্ড।
"নদী ভাঙন রোধ এবং পরিবেশ রক্ষায় আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।"
— মাহবুবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
যৌথ বাহিনীর তৎপরতা
ত্রিশাল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় সহযোগিতা দেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ত্রিশাল থানা পুলিশ।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে এলাকায় বালু খেকো চক্রের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।