মাঠে না নেমেও হারের তিক্ত স্বাদ যে কতটা কড়া হতে পারে, গতকাল সেটিই হয়তো টের পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার কাল বল হাতে রান দেননি, কিন্তু দর্শক সারিতে বসে একে একে নিজের তিনটি দলের পরাজয় প্রত্যক্ষ করেছেন। ইনজুরি আর ভাগ্য—সব মিলিয়ে মোস্তাফিজের জন্য দিনটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই হতাশার।
গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের ম্যাচে মোস্তাফিজের মাঠে থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডান হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করায় তিনি দল থেকে ছিটকে যান। তার পরিবর্তে সুযোগ পান শরীফুল ইসলাম। বোলাররা লক্ষ্যটা নাগালে রাখলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরে যায় ২৬ রানে। ড্রেসিংরুমে বসে ২৪৭ রান তাড়ায় ২২১ রানে দলের গুটিয়ে যাওয়া দেখা ছাড়া 'কাটার মাস্টারের' আর কিছুই করার ছিল না।
একই দিনে পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল) হারের মুখ দেখেছে মোস্তাফিজের দল লাহোর কালান্দার্স। জাতীয় দলের হয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে লাহোরের হয়ে ৫ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। কাল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে লাহোর মাত্র ১৩৪ রানে অলআউট হয়ে গেলে কোয়েটা ১৬.১ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে। এখানেও বোলারদের করার কিছু ছিল না, দায়টা ছিল সেই ব্যাটসম্যানদেরই।
গল্পের তৃতীয় অংশটি একটু ভিন্ন। আইপিএলের নিলামে এবার মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। তবে রাজনৈতিক জটিলতা ও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কাগজে-কলমে স্কোয়াডে না থাকলেও মোস্তাফিজের এই সাবেক সম্ভাব্য দলটিও কাল হেরেছে। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ১৮০ রান করেও ১৯.৪ ওভারে পরাজয় বরণ করে কলকাতা। এ নিয়ে মৌসুমে ৬ ম্যাচের ৫টিতেই হারল তারা।
সব মিলিয়ে মোস্তাফিজের জন্য গতকালকের দিনটি ছিল দর্শক হয়ে থেকে একের পর এক পরাজয় দেখার এক অদ্ভুত ও বিষাদময় অভিজ্ঞতা।
মন্তব্য করুন