নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক সময় বাংলা: আপনার রাস্তায় চলা গাড়িটি আসলে কতটা উত্তপ্ত? খালি চোখে তা বোঝা না গেলেও একটি থার্মাল ক্যামেরা দিয়ে তাকালে আপনি রীতিমতো চমকে যেতে পারেন। সম্প্রতি একটি থার্মাল ইমেজিং বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পেট্রোল চালিত গাড়ি এবং ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) মধ্যে তাপমাত্রার এক বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
পেট্রোল ইঞ্জিনের উত্তাপ:
পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়িগুলোতে মূলত অভ্যন্তরীণ দহন বা ‘কম্বাশন’ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি পোড়ানো হয়। বিজ্ঞানের সাধারণ থার্মোডাইনামিকস সূত্র অনুযায়ী, এই জ্বালানি পোড়ানোর সময় উৎপন্ন শক্তির একটি বিশাল অংশ (প্রায় ৭০% থেকে ৮০%) সরাসরি তাপে পরিণত হয়ে নষ্ট হয়। থার্মাল ক্যামেরায় দেখলে মনে হয় যেন ইঞ্জিন এবং সাইলেন্সর পাইপ দিয়ে আগুনের হলকা বের হচ্ছে।
ইলেকট্রিক গাড়ির শীতলতা:
অন্যদিকে, ইলেকট্রিক গাড়ি সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এতে কোনো কিছু পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না বলে ঘর্ষণজনিত সামান্য তাপ ছাড়া বাকি সবটুকু শক্তিই চাকাকে ঘোরাতে কাজে লাগে। ফলে থার্মাল ইমেজে এই গাড়িগুলোকে পেট্রোল গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি শীতল এবং নীলচে দেখায়।
দক্ষতার লড়াই:
এটি কেবল তাপমাত্রার পার্থক্য নয়, বরং শক্তি ব্যবহারের দক্ষতার একটি বড় উদাহরণ। পেট্রোল ইঞ্জিন যেখানে শক্তির বড় অংশ তাপ হিসেবে অপচয় করে, সেখানে ইলেকট্রিক গাড়ি সেই শক্তিকে বাঁচিয়ে মাইলেজ বাড়াতে সক্ষম। যদিও এই চিত্রটি প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ধারণা প্রদানের জন্য তৈরি, তবে এর পেছনের বিজ্ঞানটি সম্পূর্ণ বাস্তব।
পরিবর্তনশীল বিশ্বে জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষায় ইলেকট্রিক গাড়িই কি তবে আগামীর প্রধান বাহন হতে যাচ্ছে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
মন্তব্য করুন