নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
সারাদেশে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন রাজধানীর রাজপথে বেঁচে থাকার লড়াই করা নিম্নআয়ের মানুষের হাহাকার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশনে তেলের অপেক্ষায় থাকা রাইড শেয়ারিং চালক তরিকুল ইসলামের কণ্ঠে ঝরে পড়ল জীবন যুদ্ধের এক নির্মম বাস্তবতা। তিনি বলেন, “আজকে হয়তো আমার বাসায় বাজার হবে না। বাজার করব কী দিয়ে? সারা দিন তো তেলের জন্য বসে আছি। বাজারের কথা চিন্তা করলে বাবা-মায়ের ওষুধের টাকা হবে না। আর ওষুধের টাকার চিন্তা যদি করতে যাই, তাহলে বাজার হবে না।”
পরিবারের ছয় সদস্যের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তরিকুল জানান, সকাল ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি তেল পাননি। তেলের অভাবে মোটরসাইকেল চালাতে না পারায় দিনের আয় এখন শূন্যের কোঠায়। গত কয়েকদিনের এই সংকটে সংসার চালাতে গিয়ে ইতিমধ্যে ১৫ হাজার টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। তরিকুলের মতো হাজারো মানুষ এখন সংকটের মুখে—যাদের কাছে একদিন তেল না পাওয়ার অর্থ হলো ওই দিনটি অনাহারে কাটানো কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তরিকুলদের মতো প্রান্তিক মানুষের এই কষ্ট আরও দীর্ঘায়িত হবে।
মন্তব্য করুন